প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরু হচ্ছে ২১ আগস্ট, তাই এখানে দেখে নেওয়া যাক প্রাক-মৌসুম দলবদলের পর মূল ক্লাবগুলো কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। একটা বিষয় সবখানেই স্পষ্ট: এটা মিডফিল্ড-সবকিছু-নিয়ন্ত্রণ করার যুগ, আর কে মিডফিল্ড শক্তিশালী করেছে আর কে দুর্বল করে ফেলেছে — সেটাই বড় অংশে ঠিক করে দিচ্ছে কারা শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকবে।
আর্সেনাল: লিগের সেরা ডাবল-পিভট, কিন্তু ইনজুরির মেঘ কাটছে না
গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল এই গ্রীষ্মে বড় খরচ করেছে, নিউক্যাসল থেকে নিয়ে এসেছে Bruno Guimarães-কে, যিনি তারকা খেলোয়াড় Declan Rice-এর সাথে জুটি বাঁধবেন — একটা ডাবল-পিভট যা রক্ষণেও দুর্দান্ত, বল পায়েও সমান কার্যকর। Bruno Guimarães গত মৌসুমে রক্ষণ লাইন ভেদ করে ৪৬টি প্রোগ্রেসিভ পাস সম্পন্ন করেছিলেন, লিগে যা শীর্ষ পাঁচে। এর সাথে অধিনায়ক Martin Ødegaard আর Mikel Merino-কে যোগ করলে, আর ম্যানচেস্টার সিটি থেকে Rodri বার্সেলোনায় চলে যাওয়ার পর, গানার্সদের এখন প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে শক্তিশালী মিডফিল্ড বলা যেতেই পারে।
তবে প্রাক-মৌসুমে তারা মাত্র ২-২ রেকর্ড করেছে, মূলত মূল সেন্টার-ব্যাক William Saliba ইনজুরির কারণে বাইরে থাকায় — আর তিনি অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত বাইরে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে ছাড়া আর্সেনালের রক্ষণভাগ কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, তা তাদের মৌসুমের শুরুকে অনেকটাই নির্ধারণ করবে। সব মিলিয়ে বলা যায়: কাগজে-কলমে, ইনজুরি সংকট এড়াতে পারলে গানার্স এখনও শিরোপার জোরালো দাবিদার।
ম্যানচেস্টার সিটি: Pep থেকে গেলেন, কিন্তু মিডফিল্ডে বড় ধাক্কা
Pep Guardiola সিটিতেই থাকছেন, কিন্তু বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল বিজয়ী Rodri-র চলে যাওয়া অফিসিয়ালি ঘোষণা না হলেও, তার বার্সেলোনায় যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে। এটা সিটির মিডফিল্ডে সত্যিকারের ধাক্কা — তারা নিয়ে এসেছে Elliot Anderson-কে আর এখনও Enzo Fernández-এর পেছনে ছুটছে বলে খবর, কিন্তু স্বল্প মেয়াদে কেউই Rodri-র অভিজ্ঞতা আর মাঠ কভারেজের বিকল্প হতে পারবেন না বলেই মনে হচ্ছে।
প্রাক-মৌসুম শুরুতে এসি মিলানের কাছে হারের পর, সিটি টানা কে লিগ অল-স্টার একাদশ আর আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে, নতুন সাইনিং Omar Marmoush আতলেতিকোর বিপক্ষে দারুণ খেলেছেন। কিন্তু নতুন হেড কোচ Enzo Maresca জানিয়েছেন, মূল স্ট্রাইকার Haaland-সহ ৮-৯ জন খেলোয়াড় তখনও অফিসিয়ালি প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেননি — এটা মৌসুমের শুরুতে প্রভাব ফেলে কিনা তা দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে: Rodri-কে হারানো সিটির মিডফিল্ডে বড় ধাক্কা, আর নতুন কোচের কৌশল ও মিডফিল্ড সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে কিনা তা হবে তাদের এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: মিডফিল্ড ঢেলে সাজানো, আক্রমণ অবশেষে স্থির হচ্ছে
ইউনাইটেডের মিডফিল্ডেও বড় রদবদল হয়েছে — Casemiro চলে গেছেন, তার জায়গায় এসেছেন Andrey Santos আর Youri Tielemans, যা রেড ডেভিলদের ইঞ্জিন রুমের চেহারা বদলে দিচ্ছে। সামনে, Rasmus Højlund চলে যাওয়ার পর, Joshua Zirkzee মূল সেন্টার-ফরোয়ার্ড পজিশন পাকা করেছেন, আর বাঁ দিকে Marcus Rashford-এর সাথে জুটি বেঁধে এটাই সম্ভবত এই মৌসুমে ইউনাইটেডের সবচেয়ে স্থিতিশীল আক্রমণভাগ হবে। ইউনাইটেড এখনও একজন লেফট-ব্যাক আনার পরিকল্পনা করছে বলে খবর, আরবি লাইপজিগের David Raum-কে লক্ষ্য বলা হচ্ছে।
প্রাক-মৌসুমে ইউনাইটেড টানা চার ম্যাচে অপরাজিত। দলবদল এখনও চলমান থাকায় তাদের মৌসুম নিয়ে এখনই মূল্যায়ন করা কঠিন, তবে নতুন মিডফিল্ড কতটা বোঝাপড়া তৈরি করতে পারে তা তাদের সীমা ঠিক করে দেবে।
বাকিরা: চেলসির সহজ সূচি, নিউক্যাসলের অবনমন-দুশ্চিন্তা, টটেনহ্যামের খরচের ঝড়
বিপর্যয়কর একটা মৌসুমের পর চেলসি নিয়ে এসেছে Morgan Rogers আর Maxence Lacroix-কে, শেষ দুই প্রাক-মৌসুম ম্যাচে তাদের ভালোই দেখাচ্ছে, যদিও Enzo Fernández-কে নিয়ে তাদের পরিস্থিতি এখনও অমীমাংসিত। ভালো খবর: এই মৌসুমে ইউরোপিয়ান ফুটবল নেই, তাই সহজ সূচি তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সত্যিকারের সুযোগ দিচ্ছে।
আর্থিক সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত নিউক্যাসল তিনজন মূল খেলোয়াড় হারিয়েছে, এমনকি তাদের কোচও হতাশ হয়ে চলে গেছেন — এই মৌসুমে তাদের জন্য এটা অবনমন-লড়াই হতে পারে।
টটেনহ্যাম এই গ্রীষ্মের সবচেয়ে বেশি খরচকারী দল, নতুন খেলোয়াড়ের পেছনে ২৩৭ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি খরচ করেছে, যার বেশিরভাগ গেছে মিডফিল্ডে — Sandro Tonali-র জন্য ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড আর Mateus Fernandes-এর জন্য ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড। প্রাক-মৌসুমে পাঁচ ম্যাচেও তারা অপরাজিত। কিন্তু তাদের আক্রমণের ফিনিশিং দক্ষতা এখনও বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না; খবরে বলা হচ্ছে তারা আমেরিকান ফরোয়ার্ড Balogun-এর সাথে কথা বলছে, যিনি চুক্তি সম্পন্ন হলে টটেনহ্যামের আক্রমণের শেষ টুকরো হতে পারেন।
ক্রিস্টাল প্যালেস কনফারেন্স লিগ জিতে ইউরোপা লিগের জায়গা অর্জন করেছে, কিন্তু এই গ্রীষ্মে বড় খরচ করেনি — শুধু ট্রেড আর ফ্রি ট্রান্সফারের মাধ্যমে Dwight McNeil আর Takehiro Tomiyasu-কে এনেছে — আর মূল ডিফেন্ডার Maxence Lacroix-কে হারিয়েছে। দেশীয় ও ইউরোপীয় দুই ফ্রন্টেই চাপে থাকায়, তাদের মৌসুম নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন।
আমার মত: মিডফিল্ডই সবকিছু নির্ধারণ করে, কে শক্তিশালী হয়েছে আর কে দুর্বল তা স্পষ্ট
সাতটা ক্লাবকে পাশাপাশি রাখলে এই মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ মিডফিল্ড লড়াইয়ের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে: আর্সেনাল সঠিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে, টটেনহ্যাম বড় খরচ করে উন্নতি করেছে — এই দুইটা দলই এই রাউন্ডের বিজয়ী। সিটি আর ইউনাইটেডকে বাধ্য হয়ে দল পুনর্গঠন করতে হয়েছে, আর তারা স্থিতিশীল হবে কিনা তা নির্ভর করছে তাদের নতুন মিডফিল্ড কত দ্রুত বোঝাপড়া তৈরি করতে পারে তার ওপর। ইনজুরির তালিকা (বিশেষ করে Saliba) আর নতুন সাইনিংরা কত দ্রুত মানিয়ে নেয় — আগামী কয়েক মাসে এই দুটো বিষয়ই সবচেয়ে বেশি নজর রাখার মতো।